• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
কে হচ্ছেন বাঁশখালীর জনপ্রতিনিধি? চট্টগ্রাম ১৬, বাঁশখালী হতে শেষ হাসি কার? নির্বাচন ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের রাউন্ড টেবিল আলোচনা প্রীতি ম্যাচে বোয়ালখালীকে হারিয়ে বাঁশখালী ক্রিকেট একাডেমির জয় বেপরোয়া এস আলম পরিবহন কেড়ে নিল তাহমিনার প্রাণ আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের জনগণকে জামায়াতের শুভেচ্ছা বাঁশখালী সর্ববৃহৎ (লংপিচ) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন বাঁশখালীর কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব এমতাজুল হক চৌধুরীর স্মরণসভার প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত সংবর্ধিত শিক্ষক বাড়ি ফিরেই চিরবিদায় নিলেন

চলে গেলেন বাঁশখালীর কৃতি সন্তান শায়খুল হুফফাজ আলহাজ মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব সাহেব দা.বা

রিপোর্টার নাম: / ১৬৭ শেয়ার
আপডেট: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫

রহিম সৈকত ◾

চলে গেলেন বাঁশখালীর ভাদালিয়ার কৃতি সন্তান, শায়খুল হুফফাজ আলহাজ মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব (দা.বা.)। তিনি চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মুহিউসসুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক, তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্স চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা, চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদরাসা সংস্থার সভাপতি এবং হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন।

১৯৬১ সালের ৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার ভাদালিয়া গ্রামে এক ধর্মপরায়ণ পরিবারে জন্ম নেন তিনি। ছোটবেলায় পিতৃহারা হয়ে জীবন শুরু করেন সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামে, পরে পাহাড়তলী মুহাম্মদীয়া মাদরাসা ও নাজিরহাট বড় মাদরাসায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। দারিদ্র্য ও কষ্ট তাঁকে কখনো থামাতে পারেনি, বরং আরও উজ্জ্বল করেছে তাঁর জীবনপথ।শিক্ষকতা শুরু করেন পাহাড়তলী মুহাম্মদীয়া মাদরাসায়, পরে রাউজানের মদুনাঘাট ইউনুছিয়া ও নাজিরহাট বড় মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। এরপর নিজ হাতে গড়ে তোলেন তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্সসহ অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আলেম-উলামা তৈরির পাশাপাশি তিনি সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও সংগঠক হিসেবে।

নিজের সম্পদ, সময়, শ্রম সবই তিনি ব্যয় করেছেন দ্বীনের খেদমতে। তাঁর নিজের নামে কোনো সম্পদ ছিল না—সবই ছিল মাদরাসা, মসজিদ ও ছাত্রদের জন্য উৎসর্গীকৃত।তিনি প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলায় তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্সের একাধিক শাখা। পাশাপাশি গড়ে তোলেন প্রাইভেট মাদরাসা এসোসিয়েশন, ইমাম ও খতীব ফাউন্ডেশন, আন্তর্জাতিক হাফেজে কুরআন সংস্থা, যাকাত ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন। এসবের মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী আলেম গড়ার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়ন, মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা, রোহিঙ্গা ত্রাণ, নওমুসলিম পুনর্বাসন, দাওয়াতি কার্যক্রমে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।

তাঁর উদ্যোগে প্রতিবছর হজযাত্রী সংবর্ধনা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, সামাজিক সম্মাননা, হারাম শরীফে বাংলা ভাষার প্রচলন, দুঃস্থদের পুনর্বাসন, এবং আলেমদের ঐক্যের জন্য সম্মেলনের আয়োজন করা হতো। এছাড়াও কাতারে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ, মসজিদে সমস্যার সমাধানে পুস্তক রচনা, মিডিয়ায় ইসলাম প্রচারে ‘বাংলাদেশ কওমি বার্তা’ প্রকাশসহ বহুমাত্রিক অবদান রেখে গেছেন।মাওলানা তৈয়ব সাহেব ছিলেন একাধারে আলেম, শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী। তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও কর্মমুখর জীবন আজীবন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ
সিবি হসপিটাল কী? কেন? কিভাবে?