• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১১ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
বাঁশখালীতে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে : ডা. শফিকুর রহমান ঢাবি গাউসিয়া কমিটির সভাপতি হলেন বাঁশখালীর আমিরুল নিজের বাড়ি বিক্রি করে বানালেন ২০ লাখ বইয়ের লাইব্রেরি এফ. এ. ক্রিয়েটিভ ফার্ম লিমিটেডের এক যুগপূর্তি উদযাপন খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নেই বাঁশখালীর সাইমন! আইসিবিআই ব্যাংকের এসভিপি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান হলেন বাঁশখালীর মান্নান আশরাফ ফকির হত্যা: অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা, স্ত্রী-ছেলে কারাগারে হাটহাজারীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশ্ব মঞ্চে মোহাম্মদ ইকবাল

নিজের বাড়ি বিক্রি করে বানালেন ২০ লাখ বইয়ের লাইব্রেরি

রহিম সৈকত / ২০৫ শেয়ার
আপডেট: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

একজন মানুষ নিজের ঘর বিক্রি করে গড়ে তুলেছেন ২০ লাখ বইয়ের একটি ফ্রি লাইব্রেরি—প্রমাণ করে দিয়েছেন, জ্ঞানই মানুষের সর্বোচ্চ উপহার। যখন বই-প্রেম মিলে যায় আজীবন নিবেদন করার মানসিকতার সঙ্গে, তখন জন্ম নেয় সত্যিই অনন্য কিছু।

কর্নাটকের ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ অঙ্কে গৌড় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানো এক মহৎপ্রাণ। নিজের বাড়ি বিক্রি করেছেন, কয়েক দশক ধরে বই সংগ্রহ করেছেন, আর শেষ পর্যন্ত ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি—সম্পূর্ণ বিনামূল্যে—সবার জন্য উন্মুক্ত করেছেন। নীরব, বিনয়ী এই মানুষটি দেখিয়ে দিয়েছেন, একাগ্রতা কত বড় আলো জ্বালতে পারে।

দীর্ঘ যাত্রার শুরু :
মাণ্ড্যা জেলার এক কৃষক পরিবারে বড় হওয়া অঙ্কে গৌড় শৈশব ছিল সীমিত সুযোগ-সুবিধার। বই—যা তিনি সবচেয়ে ভালোবাসতেন—সেটিও ছিল তাঁর নাগালের বাইরে। কিন্তু তাতে থেমে যাননি তিনি। কৌতূহল আর জেদই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সে, বাসকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কন্নড় সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্স করতে করতে তিনি বই সংগ্রহ শুরু করেন।

যে লাইব্রেরি সবার জন্য একটি সম্পদ : তবে তিনি শুধু নেশার বশে বই জমাননি, যেমন আমরা অনেকেই করি। তাঁর সংগ্রহ ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক মিশনে। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে চিনিশিল্প কারখানায় চাকরি করা অবস্থায় তিনি তাঁর বেতনের প্রায় ৮০% ব্যয় করতেন বই কেনায়। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর পদক্ষেপ—নিজের মাইসোরের সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিলেন সংগ্রহকে আরও বড় করতে।

ফলাফল? বিস্ময়কর। তাঁর লাইব্রেরি— পুস্তক মনের—মাণ্ড্যার শ্রীরঙ্গপট্টনা সংলগ্ন হারালাহল্লি গ্রামে অবস্থিত, আর সেখানে রয়েছে প্রায় ২০ লাখ বই। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ লাখ বিরল বিদেশি বই এবং ৫ হাজারের বেশি বহুভাষার অভিধান। কিন্তু শুধু বইয়ের সংখ্যার কারণেই জায়গাটি অসাধারণ নয়—সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এর উন্মুক্ততা। এখানে কোনো সদস্যফি নেই, কোনো বাধা নেই। গবেষক, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও এসেছেন। সাহিত্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পুরাণ, দর্শন—কি নেই! আছে ১৮৩২ সাল পর্যন্ত পুরোনো মূল্যবান পাণ্ডুলিপি।

ভাবুন—একটি জায়গা, যেখানে যে কেউ ঢুকে পড়তে পারে, কোথাও কোনো ফি নেই, আর সামনে সাজানো দুই মিলিয়ন বই—এটি শুধু লাইব্রেরি নয়; এটি এক ঘোষণা। অঙ্কের মতো অনেকেই যাদের শৈশবে বইয়ের নাগাল ছিল না, তাদের সামনে এখন দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর সংগ্রহশালা।

কেন অঙ্কে গৌড়ার লাইব্রেরি এত গুরুত্বপূর্ণ : এই সময়—যখন ডিজিটাল কনটেন্টের ঢেউ বইকে আড়াল করে, অনেক লাইব্রেরি টিকে থাকার লড়াইয়ে, আর বইকে কখনও কখনও বিলাসিতা মনে হয়—অঙ্কে গৌড়র গল্প আলাদা। এটি সমতার গল্প। এটি সমাজের গল্প। এটি জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহের গল্প। এ গল্প বলে—একজন মানুষ, ধীরে ধীরে, চুপচাপ, কী বিশাল কিছু গড়ে তুলতে পারেন। তিনি কোনোদিন ঘোষণা দেননি—“আমি ভারতের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি বানাব।” কিন্তু ধীরে ধীরে, বই বই করে, স্বপ্ন স্বপ্ন করে—তিনি তৈরি করেছেন যেন এক বিস্ময়।

স্থানীয় মানুষদের জন্য তো বটেই, সারা ভারত থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা আসছেন এখানে। এটি এক ধরনের গ্রাসরুটস আন্দোলনের প্রতীক। অঙ্কে তাঁর ঘর বিক্রি করেছেন—হ্যাঁ—কিন্তু তার চেয়েও বড় কিছু করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত সম্পদকে তিনি পরিণত করেছেন সবার সম্পদে। ব্যক্তিগত আগ্রহকে তিনি বানিয়েছেন সামষ্টিক সম্পদ।

এক পৃথিবীতে যেখানে আমরা বড় বড় ফাউন্ডেশন, করপোরেট সাহায্য আর আন্তর্জাতিক দান নিয়ে কথা বলি—সেখানে এই গল্প মনে করিয়ে দেয়: এক সাধারণ মানুষ, নিজের গ্রামেই, নিজের সামর্থ্যে, বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। তাই শিরোনামটি সত্যিই মানানসই। তিনি একটি বাড়ি বিক্রি করেছেন, আর বিনিময়ে বই উপহার দিয়েছেন গোটা ভারতকে। আর হয়তো সেই সঙ্গে আমাদেরও একটু করে আশা উপহার দিয়েছেন—একজন মানুষ, একটি স্বপ্ন, একটি ঝুঁকি—বিশ্বকে খুলে দিতে পারে।

তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়া প্রভাব : একটি ছোট গ্রামে শুরু হওয়া অঙ্কে গৌড় কাজ এখন ছড়িয়ে পড়ছে কর্নাটক ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর। পুস্তক মনে যাঁরা আসেন, অনেকেই বদলে যান। কেউ নিজের স্কুলে ছোট লাইব্রেরি শুরু করেন, কেউ বই সংগ্রহ অভিযানের আয়োজন করেন, কেউ দূরদূরান্ত থেকে বই পাঠিয়ে দেন। অনলাইনেও তাঁর গল্প মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে—ব্যক্তিগত উদ্যোগ কত বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ লিখেছেন—এই মানুষের গল্প তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে নিজের শৈশবের লাইব্রেরিতে, পুরোনো কাগজের গন্ধে, স্বপ্নের শুরুতে। বার্তাটি একটাই—যখন আপনি দেন, বিনিময়ে কিছু চান না, তখন অন্যদের মাঝেও সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে।

অঙ্কে গৌড় লাইব্রেরি শুধু বইয়ের ঘর নয়—এটি এক আন্দোলন। এটি প্রমাণ করে, উদারতা আর শিক্ষা পাশাপাশি হাঁটতে পারে, এবং প্রকৃত সম্পদ সবসময় টাকার মাপে ধরা যায় না।

(১০০ লাইব্রেরি ওয়েবসাইট থেকে ভাষান্তর করেছেন রহিম সৈকত)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ
সিবি হসপিটাল কী? কেন? কিভাবে?