তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা, আগামীর নির্বাচন এবং ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড টেবিল আলোচনা। ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, চট্টগ্রামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।“তরুণ প্রজন্ম, নির্বাচন ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই রাউন্ড টেবিল আলোচনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তরুণ নেতৃত্বসহ মোট ২৪ জন বক্তা আলোচনায় অংশ নেন। বক্তাদের নির্বাচন করা হয় চারটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি— শাসন ও জনসেবা, শিক্ষা ও একাডেমিয়া, আইন ও বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা—এর ভিত্তিতে।শাসন ও জনসেবা ক্যাটাগরিতে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষক মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক বেবী হাসান এবং নারী ঐক্য বাংলাদেশ (নোবা)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী জেসমিনা খানম।শিক্ষা ও একাডেমিয়া ক্যাটাগরিতে বক্তব্য দেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ আল নোমান, পোর্ট সিটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য দিলরুবা আহমেদ।
আইন ও বিচার বিভাগ ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সাইফুল আবেদীন, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এশাদুর রহমান রিটু এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে আলোচনায় অংশ নেন কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি, দৈনিক ইত্তেফাক-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সালাউদ্দিন রেজা, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এর ব্যুরো প্রধান আয়ান শর্মা এবং সিটিজি পোস্ট-এর নিউজ প্রধান ইশাত মান্নান।আলোচনায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তরুণদের ভূমিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, ডিপফেক প্রযুক্তি, ভুয়া তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের প্রভাব নিয়ে গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিবলী আল সাদিক।রাউন্ড টেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরব বসন্তের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ২০১০–২০১১ সালের সময়কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া ও ইয়েমেনসহ একাধিক দেশে সরকার পতনের ঘটনা ঘটে।
এটি ডিজিটাল মাধ্যমের শক্তিশালী প্রভাবের একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক নতুন তরুণ ভোটার যুক্ত হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নতুন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তথ্য যাচাই না করে কোনো কিছু বিশ্বাস করা উচিত নয়।আলোচনায় তরুণদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিমত দেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।আয়োজকরা জানান, এই রাউন্ড টেবিল আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ সমাজের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং একটি দায়িত্বশীল, সচেতন ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।