শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি, মহড়া ও আলোচনা সভা মির্জাখীল দরবারে ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে প্রথম ওরস শরীফ প্রবীণ সাংবাদিক সুলতান আহমেদ আশরাফী আর নেইবাঁশখালীর নৈতিক শিক্ষা ও মেধার স্বীকৃতিতে তারতিলুল কোরআন একাডেমীর বার্ষিক আয়োজন ডুসাবের নতুন সভাপতি তোহা, সাধারণ সম্পাদক মানিক বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে কারিতাসের ১২ লাখ টাকা সহায়তা বাঁশ: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সম্পদ একাধিকবার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন AI-এর প্রভাবে ঝুঁকিতে ৪০ পেশা, তালিকায় সাংবাদিক-শিক্ষক থেকে ওয়েব ডেভেলপার দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন

সাদ্দামের “CPR” বাঁচালো সাড়ে তিন বছরের শিশু

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ২০ ভিউ

মাসুদ রানা◾
সাদ্দাম নামের এক তরুণের তাৎক্ষণিক সি পি আর (CPR – Cardiopulmonary Resuscitation) প্রয়োগে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাড়ে তিন বছরের শিশু আলী আজগর। ঘটনাটি ঘটে বাঁশখালীর চাম্বল এলাকায়, যেখানে পানিতে পড়ে গিয়েছিল শিশুটি। সময়মতো কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না পেলে হয়তো আর বাঁচানো যেত না তাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহেশখালীর আমানুল করিমের ছেলে আলী আজগর খেলার সময় ঘরের পাশের খালে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তখন তার দেহ ছিল নিথর, নিঃশ্বাস বন্ধ। আতঙ্কিত পরিবেশে উপস্থিত সাদ্দাম সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে দ্রুত চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।

সাদ্দাম প্রথমে শিশুটির মুখ ও বুক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে না। এরপরই তিনি মুখে-মুখে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া শুরু করেন— যা হলো CPR-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথম প্রচেষ্টায় ফল না মিললেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় শিশুটির দেহ কেঁপে ওঠে, শ্বাস ফিরতে শুরু করে।

অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে, দ্রুত তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে।

CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) হলো একটি জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি, যা হঠাৎ শ্বাসপ্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়। মূলত দুটি ধাপ থাকে—
১. চেস্ট কমপ্রেশন (বুক চাপ দেওয়া): হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন চালু রাখে।
২. রেসকিউ ব্রেথ (মুখে-মুখে শ্বাস): অক্সিজেন-সমৃদ্ধ বাতাস ফুসফুসে ঢুকিয়ে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

শিশুদের ক্ষেত্রে, মুখে-মুখে শ্বাস অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে, কারণ তারা তুলনামূলকভাবে অক্সিজেনের জন্য বেশি সংবেদনশীল।

সাদ্দাম হোসেন বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মোয়াজ্জিন পাড়ার মৃত জাফর আহমদের ছেলে। তাঁর তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় আরেকটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। অনেকেই বলছেন— “প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সাদ্দামের এই সচেতনতা আজ একটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে।”

প্রাথমিক চিকিৎসা বা CPR সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিলে প্রতি বছর হাজারো প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এই ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো কিছু সংবাদ
© All rights reserved © 2026 Banshkhali Express
Customized By BlogTheme