— রহিম সৈকত
আগামী ৯ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্যাদুর্গত বাঁশখালী সফর নিঃসন্দেহে এ জনপদের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা বাঁশখালীর মানুষের জীবন-জীবিকা, বসতভিটা, কৃষি ও অবকাঠামোকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই সফর কেবল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হয়ে না থেকে, বাঁশখালীর দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
দলের বাঁশখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুখপাত্র হিসেবে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রীর সামনে বন্যাকবলিত মানুষের প্রকৃত দুর্ভোগ, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেন, তাহলে তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিচের পয়েন্ট গুলো যথাযথভাবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে এড্রেস করার মাঝে এই সফরের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে অন্যথায় গতানুগতিক একটি সফর এবং দলীয় হাইপেই শেষ হবে।
তবে শুধু দুর্যোগের ক্ষতচিহ্ন দেখালেই চলবে না। বাঁশখালী যে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্র উপকূল, শিল্পায়নের সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা—এসব মিলিয়ে বাঁশখালী ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন নয়।
একই সঙ্গে উপকূলীয় মানুষের বহু বছরের দাবি—একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ—অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা জরুরি। প্রতি বছর জোয়ার, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি কার্যকর ও টেকসই বেড়িবাঁধ শুধু মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করবে না, বরং কৃষি, মৎস্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমরা আশা করি, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে না। এটি হবে বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থান করে দেওয়ার একটি কার্যকর সূচনা। বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বাঁশখালী গড়ে তোলাই হোক এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন।
লেখক : সাংবাদিক ও শিক্ষক, প্রধান নির্বাহী, বাঁশখালী এক্সপ্রেস
Leave a Reply