শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি, মহড়া ও আলোচনা সভা মির্জাখীল দরবারে ১৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে প্রথম ওরস শরীফ প্রবীণ সাংবাদিক সুলতান আহমেদ আশরাফী আর নেইবাঁশখালীর নৈতিক শিক্ষা ও মেধার স্বীকৃতিতে তারতিলুল কোরআন একাডেমীর বার্ষিক আয়োজন ডুসাবের নতুন সভাপতি তোহা, সাধারণ সম্পাদক মানিক বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে কারিতাসের ১২ লাখ টাকা সহায়তা বাঁশ: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সম্পদ একাধিকবার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন AI-এর প্রভাবে ঝুঁকিতে ৪০ পেশা, তালিকায় সাংবাদিক-শিক্ষক থেকে ওয়েব ডেভেলপার দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন

কাশ্মীরি কুল চাষে সফল কলেজ শিক্ষার্থী সাধনপুরের তারেক

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৮ ভিউ

রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, অতিথি প্রতিবেদক ▪️

মুহাম্মদ তারেক হোছাইন সবে শেষ করেছেন ইন্টারমিডিয়েট। লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের বোঝাটাও টানতে হয় তাকে। তাই পড়ালেখা শেষে চাকরির আশায় বসে না থেকে শুরু করেন কৃষি কাজ। বাড়ির পাশের ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন বিদেশী জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, থাই আপেল কুল চাষ। কুল চাষই যেন বদলে দিয়েছে তারেকের জীবন। তার পুরো বাগান জুড়েই লাল-সবুজের সমারহ মিশ্রিত বিদেশীর জাতের কুল। বাজারে এই কুলের চাহিদা ও বাজারদর বেশি থাকায় লাভের আশায় তারেক এর মুখে দেখা দিয়েছে হাসিক ঝিলিক।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের মোকামী পাড়ায় অবস্থিত তারেকের কুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে রয়েছে কাশ্মীরি আপেল কুল,বল সুন্দরী কুল, থাই আপেল কুল। দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক সুস্বাধু ও মিষ্টি। তাছাড়া পাখি ও বিভিন্ন পোকা-মাকড় থেকে কুলগুলো কে নিরাপদ রাখতে বাগানের চার পাশসহ উপরে জাল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

কুল চাষি মুহাম্মদ তারেক জানান, ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি আমার বেশ আগ্রহ ছিল। এক সময় ইউটিউবে বিদেশী কুল চাষ দেখে কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠি। পরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, থাই আপেল কুলের ৪০০টি চারা সংগ্রহ করি। এরপর লিজ নেওয়া ২ বিঘা জমিতে ১০ ফুট দূরত্ব রেখে ৪০০ চারা রোপন করি। এখন পর্যন্ত এই বাগানে আমার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক ও কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যায় আমার বাগানের প্রতিটি গাছেই প্রচুর পরিমাণে কুল ধরেছে। ১০ মাস আগে লাগানো গাছগুলোতে এ বছর গাছ প্রতি ২৫-৩০ কেজি করে কুল হতে পারে। দ্বিতীয় বছর থেকে কুলের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করছি। এভাবে টানা ৫-৭ বছর পর্যন্ত ফল বিক্রি করা যাবে। স্থানীয় বাজারে এ কুল পাইকারী ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারদের কুল দিতে হিমসিম খাচ্ছি। সব মিলিয়ে এ বছর তিনি ৫-৬ লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। এবং
কুলের চাহিদা থাকায় উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে নতুন করে বাগানের পাশের আরও ৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কুল চাষ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্দেশ্য তারেক বলেন, কুল চাষে শ্রম ও পুজি লাগে কম। কিন্তু লাভ হয় বেশি। প্রতিটি কুল গাছ দীর্ঘ ১০-১২ বছর সময় ধরে ফল দেয়। এবং প্রতি বিঘা জমিতে ১৮০- ২০০টি চারা লাগানো যায়। এই কুল চাষে প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করাও সম্ভব। তাছাড়া এই কুল সুস্বাধু ও মিষ্টি হওয়ায় মিনি আপেল নামে পরিচিত পাওয়া ও বাজারদর বেশি থাকায় বাড়তি লাভ করা যায়।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক বলেন, মুহাম্মদ তারেক একজন কৃষি প্রিয় যুবক। সে নিজ উদ্যোগে ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, থাই আপেল কুল চাষ করেছে যা কৃষিখাতে ভাল সাফল্য। তার এই কুল চাষ দেখে অনেক যুবক কৃষি আগ্রহ হচ্ছে। তাছাড়াও বাঁশখালী কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক তারেকের কুল বাগান পরিদর্শন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশী জাতের এই কুল চাষ রৌদ্রুজ্জ্বল, উচুঁ জমিতে ভালো হয়। যে বাগানে যত বেশি রোদের আলো লাগবে সেই জমির কুল বেশি মিষ্টি হবে। ৫-৬ হাত দুরত্ব গাছের চারা রোপণ করতে হয়। তুলানামূলক রোগ-বালাইও কম। নতুনভাবে কেউ যদি কাশ্মীরি আপেল কুল সহ বিভিন্ন জাতের কুল বাগান করতে আগ্রহ এবং পরামর্শ চাইলে তাকে অবশ্যই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো কিছু সংবাদ
© All rights reserved © 2026 Banshkhali Express
Customized By BlogTheme