রহিম সৈকত ◾
বাংলাদেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে একের পর এক মালিকানা ও ব্র্যান্ড পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছ ওয়ারিদ থেকে এয়ারটেল, এরপর রবি আজিয়াটার অধীনে থাকা এয়ারটেল—এবার সেই ব্র্যান্ডই নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করছে।
আবুধাবিভিত্তিক ধাবি গ্রুপের ওয়ারিদ টেলিকম ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স পায়। ২০০৭ সালের ১০ মে ২৬টি জেলায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ওয়ারিদ।তবে কয়েক বছরের মধ্যেই বদলে যায় মালিকানা। ২০১০ সালে ভারতের ভারতী এয়ারটেল ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে।
এরপর ২০ ডিসেম্বর ২০১০ ওয়ারিদের সেবা ‘এয়ারটেল’ নামে নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় পায়। ২০১৩ সালে এয়ারটেল বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারও অধিগ্রহণ করে ওয়ারিদের সম্পূর্ণ মালিকানা নেয়।এরপর আসে আরেক বড় পরিবর্তন। ২০১৬ সালে এয়ারটেল বাংলাদেশ রবি আজিয়াটার সঙ্গে একীভূত হয়। ১৬ নভেম্বর ২০১৬ একীভূতকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং এয়ারটেল ব্র্যান্ডটি রবির অধীনে একটি পণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে চালু থাকে।
এবার সেই এয়ারটেল ব্র্যান্ডেও পরিবর্তন। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রবি আজিয়াটা পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্র্যান্ড ‘সার্কেল’ উন্মোচন করেছে। রবি জানিয়েছে, এটি মূলত ব্র্যান্ডের পরিবর্তন; এর ফলে গ্রাহকদের সঙ্গে অপারেটরের সম্পর্ক কিংবা বিদ্যমান সেবায় কোনো পরিবর্তন হবে না। এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহক হবেন।অর্থাৎ গ্রাহকদের ০১৬ নম্বর, বর্তমান সেবা, প্যাকেজ, ব্যালান্স এবং মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটের লেনদেন ও তথ্য আগের মতোই বহাল থাকবে।
রবির ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারটেলের তরুণ প্রজন্মকেন্দ্রিক অবস্থানকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে সার্কেল। পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা এবং তরুণদের অনলাইননির্ভর জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ব্র্যান্ডে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও ভবিষ্যৎমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।সার্কেলের মূল দর্শন—বাস্তব ও অর্থবহ সংযোগ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত রেখে আরও অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করাই নতুন ব্র্যান্ডটির লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ১৬ বছর ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সার্কেল সেই যাত্রারই পরবর্তী ধাপ। ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন হলেও মূল প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।তিনি বলেন, এখন সংযোগের ক্ষেত্রে শুধু বেশি মানুষকে যুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; বিদ্যমান সংযোগগুলোকে আরও অর্থবহ করে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। সার্কেল এয়ারটেলের সেই যাত্রার পরবর্তী বিবর্তন।‘আসল সংযোগ, সবসময় সচল’—এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করছে সার্কেল।
বিনোদন, গেমিং, কনটেন্ট তৈরি থেকে শুরু করে তরুণদের প্রতিদিনের ডিজিটাল কর্মকাণ্ডে নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নতুন ব্র্যান্ডটি।
তবে নাম ও ব্র্যান্ড বদলালেই গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বদলে যাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এয়ারটেল ব্র্যান্ডের সময় থেকেই নেটওয়ার্ক ত্রুটি, কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল। নতুন পরিচয়ে সার্কেল এসব পুরোনো অভিযোগ কতটা দূর করতে পারে এবং প্রকৃত অর্থে কতটা গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠতে পারে—তার উত্তর মিলবে সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতায়।ওয়ারিদ থেকে এয়ারটেল, এয়ারটেল থেকে রবি, আর এবার সার্কেল—দীর্ঘ এই ব্র্যান্ড-পরিবর্তনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, নামের পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রাহকের অভিজ্ঞতারও কতটা পরিবর্তন আসে।
Leave a Reply